অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ‘লাল বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের প্রধান নূর হোসেন ওরফে লালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত ১০টার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং ভূমি দখলসহ সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নূর হোসেন লাল খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি তার ভাই বাবুলের মাধ্যমে স্থানীয় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, খিলক্ষেত থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বের মধ্যে এই মাদকের কারবার পরিচালিত হতো। স্থানীয় দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী নিয়মিতভাবে নিকুঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করত। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি মাসে এই এলাকা থেকে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করতেন।
নূর হোসেন লালের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। এক সময় তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এছাড়া ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক তকমা দিয়ে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার কৌশল অবলম্বন করতেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে তার এই ‘লাল বাহিনী’র অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার গ্রেপ্তারের সংবাদে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে ভূমি দখল ও ফুটপাতের দোকান থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের যে নেটওয়ার্ক তিনি গড়ে তুলেছিলেন, তা সমূলে উৎপাটন করাই এখন মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন জানিয়েছেন, অপরাধীর কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই; তার একমাত্র পরিচয় সে একজন অপরাধী। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নূর হোসেন লালের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর এই অঞ্চলে অপরাধের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছে পুলিশ প্রশাসন।


