পল্লী উন্নয়নে বাংলাদেশ ও সিরডাপের যৌথ উদ্যোগে জোর: গুরুত্ব পেল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

পল্লী উন্নয়নে বাংলাদেশ ও সিরডাপের যৌথ উদ্যোগে জোর: গুরুত্ব পেল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়ন ও টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র (সিরডাপ)। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. পি চন্দ্র শেখরা সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে সময়োপযোগী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণমুখী বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মডেলে রূপান্তর হওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সিরডাপের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। বৈঠকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও সিরডাপের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রামীণ জনপদ। তাই পল্লী উন্নয়ন খাতে গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সিরডাপ দীর্ঘকাল ধরে এ অঞ্চলে পল্লী উন্নয়নের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা সম্ভব। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সিরডাপ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার বর্তমানে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন উদ্ভাবন এবং তরুণ সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সিরডাপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার কোনো গঠনমূলক উদ্যোগে সরকার সব সময় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে সিরডাপ মহাপরিচালক ড. পি চন্দ্র শেখরা বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের উন্নয়ন দর্শনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নে বরাবরই নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে। বর্তমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিটি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্তকরণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পাবে এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।

বৈঠকে আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পল্লী উন্নয়ন খাতে আধুনিক উদ্ভাবন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা। সিরডাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক সেবা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই পক্ষই গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করে। দেশের পল্লী উন্নয়ন একাডেমিগুলোর সঙ্গে সিরডাপের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিরডাপের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। মূলত গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ