আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী এবং দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধানবিষয়ক জেনারেল অথরিটির বোর্ড চেয়ারম্যান তাওফিক আল-রাবিয়া মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নববী এবং পবিত্র নগরীর বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে পরিচালনাগত ও সেবামূলক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত পরিদর্শন সফরে তার সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার গাজি আল-শাহরানি। সফরকালে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের চলাচল ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শনকালে হাজিদের সেবায় নিয়োজিত মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও অংশীদার সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যক্রমের একীভূত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হয়। এসব কার্যক্রম রমজান মাসে সেবা কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পাদনের জন্য নেওয়া হয়েছে।
তাওফিক আল-রাবিয়া বলেন, এসব প্রস্তুতি সৌদি নেতৃত্বের নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও আগত দর্শনার্থীদের সেবায় সৌদি আরবের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রমজান মাসে সেবা প্রস্তুতির মানোন্নয়ন এবং সেবার বিস্তৃতি চলমান উন্নয়ন প্রচেষ্টার অংশ।
এছাড়া, তিনি জানান, এই উদ্যোগগুলো সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতাধীন ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো হাজিদের সেবার মান ও সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিদর্শনকালে তত্ত্বাবধান ও সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামে আগত মুসল্লিদের জন্য চলাচল ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা প্রদানের জন্য পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রস্তুতি সৌদি আরবের ধর্মীয় পর্যটন খাতে মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মুসল্লিদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রমজান মাসে মুসল্লিদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায়, কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং অংশীদার সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও জরুরি হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, মক্কা ও মদীনার দুই পবিত্র মসজিদে রমজান মাসে লাখো মুসল্লি আগমন করেন। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে।


