পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ডেস্ক
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বুধবার দিনব্যাপী সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা পর্যবেক্ষণ করেন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণসহ দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ফলে বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র তোড়ে গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও মাছের ঘের। নদীভাঙনের কবলে পড়ে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শত শত বসতঘর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে প্রতিমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তা দ্রুত পান।
পরিদর্শনকালে বাঘাইছড়ির বারোবিন্দু ঘাট এলাকায় ভেঙে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এলাকাভিত্তিক ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ৮৩৪ জন মানুষের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গতদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নদীভাঙনের ভয়াবহতা রোধে স্থায়ী সমাধান বাঞ্ছনীয় উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেছেন। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাময়িক ত্রাণের চেয়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক ভূমি অফিস ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে জরুরি সেবা প্রদান সহজতর হবে।
বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পেছনে মানবসৃষ্ট কারণগুলোকেও চিহ্নিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট এবং পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, জনগণের প্রতিটি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য অর্জনে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইমরানুল হক ভূঁইয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন ও প্রতিশ্রুত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি থেকে জনপদটি অনেকাংশে রক্ষা পাবে এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।


