রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান: মাদকসহ গ্রেফতার ৪৮৭

রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান: মাদকসহ গ্রেফতার ৪৮৭

অপরাধ ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গৃহীত এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানায় ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির আটটি বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৫ জন মিরপুর বিভাগের। এছাড়া ওয়ারী বিভাগ থেকে ৯০ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭১ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬৭ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৩৫ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ২৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ ১৭ জনকে গ্রেফতার করে।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৫৬৬ পিস ইয়াবা, ১৬৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম গাঁজা এবং ৪৫টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

মাদকের পাশাপাশি অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত নথিপত্রও পুলিশের হস্তগত হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা মালামালের তালিকায় রয়েছে ৮৪টি মোবাইল ফোন, দুটি মোটরসাইকেল, দুটি এসএসডি কার্ড, দুটি হার্ডডিস্ক, একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং একটি হ্যান্ড পাঞ্চ মেশিন। এছাড়া নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে, যা অবৈধ লেনদেনের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে স্ব-স্ব থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিএমপির নিয়মিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা। উদ্ধারকৃত মালামাল এবং জব্দকৃত নগদ অর্থের উৎস সম্পর্কে অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেবে।

রাজধানীর প্রতিটি জোনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অপরাধ দমনে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ মামলার নথিপত্র আদালতে উপস্থাপনের পর আসামিদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এই অভিযানের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে পুলিশি সক্ষমতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৬টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ