চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

চব্বিশ জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে এ বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটির সূচনা বক্তব্য ১০ ফেব্রুয়ারি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হকের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে তারা কারফিউ চলাকালে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের এই বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যা গণহত্যার উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এরপর, ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর ধারাবাহিকতায় আজ থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন সময়ে প্রমাণাদির বিশদ উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী ও সংস্থার কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই মামলার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ এতে গণঅভ্যুত্থানের সময়কার নেতৃত্ব ও সশস্ত্র দমন সম্পর্কিত দোষ নির্ধারণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি, প্রমাণাদি ও সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন করবে। বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংবেদনশীলতা রক্ষা করার জন্য ট্রাইব্যুনাল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

উল্লেখ্য, চব্বিশ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানটি বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার বৃহত্তম গণসংঘর্ষের মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত। এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল দায়ীকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে মামলা পরিচালনা করছে।

সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী ধাপে, প্রমাণাদির বিশ্লেষণ ও সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথার্থতা নির্ধারণ করা হবে। মামলার সঠিক ও ন্যায্য সমাধান দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জনগণের বিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ