বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফি বা অর্থের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। কার্ড তৈরির নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্র অর্থ দাবি করলে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, রাজধানীর কড়াইল বস্তি এবং ময়মনসিংহের একটি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কিছু ব্যক্তি অর্থ দাবি করছে—এমন তথ্য সরকারের কাছে এসেছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করবে এবং কোনো অবস্থাতেই অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, “এই কার্ড করতে কোনো টাকা লাগবে না। কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, এটি একটি ইউনিভার্সেল কার্ড, যেখানে দলীয় বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে তালিকাভুক্তির কাজ সম্পন্ন হবে এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। এতে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া বা অযৌক্তিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, কার্ড প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীকে। দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী প্রথম ধাপে এ সুবিধা পাবে। পরবর্তী পর্যায়ে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন।
তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে উপজেলা পর্যায়ে তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে যুক্ত থাকবেন। এভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত ভাতা বা অর্থ কোনো মাসে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। অফলাইনে উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করা যাবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং চারজন কর্মচারী বিষয়টি তদারকি করবেন।
অর্থ বিতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. জাহিদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহক যে পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণ করতে চান, সেই মাধ্যমে সরাসরি তার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। কেউ নির্ধারিত অর্থ উত্তোলন না করলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, ফলে বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।
মন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা গেলে অর্থ বিতরণও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।


