আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। রবিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনালাপে দুই নেতা সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে ফোনালাপে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন যে, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন, যা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে অর্জন করা সম্ভব নয়।
এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে তার প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘সিজার অ্যাক্ট’। তবে সিরিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ওয়াশিংটন পূর্বের বেশির ভাগ বড় নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও এখনো কিছু সুনির্দিষ্ট এবং লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বহাল থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলোর মূল লক্ষ্য সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। এ ছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মাদক কারবারি (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাপটাগন নামক অবৈধ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চক্র) এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই মূলত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন বর্তমানে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। এই তালিকার কারণে মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে এখনো কিছু আইনি বিধিনিষেধ রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার নতুন সরকারের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করছে এই অবশিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ওপর। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠে গেলে তা বিশ্বমঞ্চে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেনের পথ সুগম করবে।
এদিকে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোও সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে শুরু করেছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার অর্থনীতিকে চাঙা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই দেশটিতে শতকোটি ডলারের বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোও সিরিয়া পুনর্গঠনে বড় ধরনের আর্থিক ও উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


