আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই হামলা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থল ও আকাশসীমা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, হামলার আগে ইসরাইলও ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের বিস্তারিত বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রদান করেনি।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক সমন্বয় ক্রমবর্ধমান হওয়ার ইঙ্গিত এই অভিযান দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যৌথ অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্রভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এ পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অভিযানের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিরীক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইরানে এই হামলা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগকে সীমিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা উত্তেজনা কমানোর জন্য পর্যবেক্ষণ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাতে পারে।
এছাড়া, সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান ইরান ও প্রতিবেশী দেশের মধ্যে তেলের সরবরাহ, বাণিজ্য ও সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


