খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পরাজয়ের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকা। তিনি দলের বিদায়ের পেছনে ইনজুরি ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হাতছাড়া হওয়াকে দায়ী করেন। পাল্লেকেলে অনুষ্ঠিত শনিবারের ম্যাচে লড়াকু পারফরম্যান্স সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কা ৫ রানে পরাজিত হয়।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছে পৌঁছালেও নির্ধারিত ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। অধিনায়ক শানাকা ওই ওভারে একটি চার ও টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান। তবে শেষ দুই বলে প্রয়োজনীয় ৬ রান তুলতে না পারায় শ্রীলঙ্কার জয় অধরা থেকে যায়।
শানাকা অপরাজিত ৭৬ রান করেন এবং শেষ পর্যন্ত দলের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল এবং তার বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে শেষ ওভারে পাকিস্তানের বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদির নিয়ন্ত্রিত বোলিং ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধিনায়ক স্বীকার করেন, চাপে কিছু ভুল হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে চাপ অনুভব করা স্বাভাবিক, তবে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। সমর্থকদের হতাশ করার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই পরাজয়ের ফলে সুপার এইট পর্ব থেকেই শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত হয়। যদিও ম্যাচে জয় না পেলেও পাকিস্তানের পরবর্তী অগ্রযাত্রার সমীকরণে প্রভাব পড়ে। গ্রুপ পর্বের ফলাফল ও নেট রানরেটের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের লড়াই নির্ধারিত হয়েছে।
শানাকা বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইনজুরি দলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলারকে না পাওয়ায় দল ভারসাম্য হারিয়েছে। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পূর্ণশক্তির দল না পাওয়া মানসিক ও কৌশলগতভাবে প্রভাব ফেলে। ইনজুরির কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে এবং একাধিক ম্যাচে বিকল্প সমন্বয় নিয়ে খেলতে হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে শ্রীলঙ্কা কিছু ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখালেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নির্দিষ্ট সময়ে ছন্দ হারানোর কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ ওভারগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা ও চাপ মোকাবিলায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ শুরুতে ধীরগতির থাকলেও মাঝের ওভারে গতি বাড়ানো হয়। তবে নির্ধারিত রানরেটের চাপ শেষ দিকে বাড়তে থাকে। শেষ ওভারে শানাকার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিরতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর দল পুনর্গঠন ও ইনজুরি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অধিনায়ক। ভবিষ্যৎ সিরিজ ও আসরের আগে ফিটনেস, স্কোয়াড গভীরতা এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নতির বিষয়গুলো সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও দলীয় পারফরম্যান্স পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি স্বীকার করে অধিনায়ক যে বার্তা দিয়েছেন, তা দলের ভেতরে আত্মসমালোচনার ইঙ্গিত বহন করে।


