তাইওয়ানে সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, দুই পাইলট নিহত

তাইওয়ানে সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, দুই পাইলট নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তাইওয়ানে সামরিক মহড়া চলাকালে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী কাওশিউং-এর গাংশান বিমানঘাঁটির রানওয়ের উত্তর প্রান্তে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানটির ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলটকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল লু এবং গুও হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি লাই চিং-তে। তিনি দেশের প্রতি নিহত পাইলটদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি দিয়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিমানবাহিনীতে পাইলটদের প্রাথমিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য মূলত মার্কিন প্রস্তুতকারক বিচক্র্যাফটের তৈরি একক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট প্রপেলার প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহার করা হয়। বিধ্বস্ত টি-৩৪ মডেলের এই বিমানগুলো ১৯৮৪ সালে প্রথম তাইওয়ানের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ চার দশক ধরে সচল থাকা এই বিমানগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত উৎস ও সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানের জন্য তাইওয়ানের বিমানবাহিনী ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নাকি অন্য কোনো বাহ্যিক কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে এই কমিটি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ঘটনা তাইওয়ানের সামরিক বিমানবাহিনীর সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনের সময় পূর্ব তাইওয়ানের উপকূলে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সমুদ্রে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনায় পাইলট জরুরি নির্গমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিমান থেকে বের হতে সক্ষম হলেও পরবর্তী সময়ে তাকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি প্রধান সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ নিরাপত্তা, পাইলটদের প্রশিক্ষণকালীন ঝুঁকি এবং ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ বিমানগুলোর সামগ্রিক ফিটনেস নিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বিমানবাহিনী তাদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ বিমানগুলোর উড্ডয়ন যোগ্যতা পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ