স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রীতম কুমার বিশ্বাস জেলার সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের প্রসেনজিতের ছেলে। এ নিয়ে জেলায় চলতি মৌসুমে হামের সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। জেলা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৮ মে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরে হামের লক্ষণ নিয়ে প্রীতমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার পরিবার। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদানের পরও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির শরীরে হামের তীব্র উপসর্গ ছিল এবং তাকে বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি হিসাব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ১৭২ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৬৯ জন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই বয়স পাঁচ বছরের নিচে।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে যথাসময়ে টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত অসচেতনতা বা অবহেলার কারণে কোনো শিশু ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) শিডিউল থেকে বাদ পড়লে তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে নিউমোনিয়া বা মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
জেলায় সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে লক্ষণ দেখা মাত্রই রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


