সারাদেশ ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানের ভাই ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান (৫২) নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের শুরু রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সুটিয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মাহদি হাসানের পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার উত্তেজনা শনিবার ইফতারের পর আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরে হাসাদাহ বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে জীবননগর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, পূর্বশত্রুতির জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। নিহত হাফিজুর রহমানের পাশাপাশি মফিজুর রহমানও গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে এসে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিহত ও আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


