বিনোদন ডেস্ক
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক রায়হান রাফী তাঁর প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করেছেন। মাদ্রাসাছাত্র থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে রাফী দীর্ঘদিন ধরে তারেক মাসুদের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের অংশ হিসেবে আসন্ন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি উৎসর্গের ঘোষণা দেন তিনি।
রাফী জানান, মাদ্রাসা জীবনকালেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু তা বাস্তবায়নের বিষয়ে শঙ্কা ছিল। তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ সিনেমা এবং তার ব্যক্তিগত মাদ্রাসা জীবনের গল্প তাকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। রাফী বলেন, “প্রেশার কুকার দিয়ে প্রযোজক হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হচ্ছে। তারেক মাসুদকে দেখে সিনেমা বানাতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাই মনে হয়েছে, আমার প্রথম প্রযোজিত সিনেমাটি তাঁকে উৎসর্গ করা যায়।”
সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমার নতুন পোস্টারেও ‘মাটির ময়না’র আবহ প্রতিফলিত হয়েছে। রাফী এক পোস্টে লিখেছেন, “কোন মাটির ময়না গাইবে আমার মুক্তির গান? আ ট্রিবিউট টু তারেক মাসুদ।” পোস্টার এবং প্রচারণার মাধ্যমে সিনেমার উদ্দেশ্য এবং অনুপ্রেরণার উৎস স্পষ্ট করা হয়েছে।
‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি নারীকেন্দ্রিক গল্পে নির্মিত। সিনেমার প্রধান চারটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধ চৌধুরী। নির্মাতা জানান, সিনেমার গল্প ঢাকার শহরের প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং নারীদের জীবনের সংগ্রামকে রূপক অর্থে ‘প্রেশার কুকার’-এর সঙ্গে তুলনা করে। গল্পের শেষে একদল নারীর মুক্তির গান ফুটে ওঠার দৃশ্যের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাফীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিনেমাটি এবার রোজার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এর আগে তিনি প্রতি বছর কোরবানির ঈদে সিনেমা মুক্তি দিয়ে আসছেন। তবে এবারের সিদ্ধান্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়বস্তুর গুরুত্ব এবং নারীদের কেন্দ্রীকরণকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কাছে মাদ্রাসা জীবন থেকে পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা এবং নারীদের জীবনের চ্যালেঞ্জের সংমিশ্রণ তুলে ধরার চেষ্টা করছে। রাফী আশা করছেন, সিনেমা মুক্তির পর দর্শকরা কাহিনীর গভীর অর্থ ও চরিত্রগুলোর সংগ্রাম উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।
সিনেমার পোস্টার, প্রচারণা এবং রাফীর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ‘প্রেশার কুকার’ শুধুমাত্র বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র নয়, এটি সামাজিক বাস্তবতা এবং নারীদের অবস্থানের একটি প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। নির্মাতা ও প্রযোজক হিসেবে রাফী প্রথমবারের মতো এমন একটি প্রকল্পে কাজ করলেও সিনেমার গল্প এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তি তাকে চলচ্চিত্র জগতে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


