যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইরানে সামরিক অভিযান সীমিত করতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইরানে সামরিক অভিযান সীমিত করতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চলতি সপ্তাহে দ্বিদলীয় ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলুশন’-এর ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হবে, যার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পৃথকভাবে উত্থাপিত এই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে কংগ্রেস প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ধরনের উদ্যোগ আইনে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনুরূপ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবু, বেশিরভাগ ডেমোক্র্যাট এবং কিছুসংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাতে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টীম কাইনে বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আমাদের যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়। আমাদের সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে— এ বিষয়ে দ্রুত ভোট হওয়া প্রয়োজন।”

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলুশন’ অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই আইন পাস হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতের ইরান অভিযানের পথে বাধা সৃষ্টি হবে।

অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি মন্তব্য করেছেন, “সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়— এমন কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ট্রাম্পের নেই, অথচ এতে আরও সেনা সদস্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।”

রোববার অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি লক্ষ্য কী তা স্পষ্ট করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার কংগ্রেস সদস্যদের ব্রিফ করবেন।

প্রস্তাব পাস হলেও ট্রাম্প ভেটো দিলে কার্যকর করার জন্য কংগ্রেসকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভেটো অতিক্রম করতে হবে, যা অর্জন করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভোটেই যথেষ্ট সমর্থন মিলবে কি-না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না বলেন, “প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধে সমর্থন দেওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি কঠিন ভোট হবে।”

অধিকাংশ রিপাবলিকান সম্ভবত ট্রাম্পের অবস্থান সমর্থন করবেন। আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কোটন উল্লেখ করেন, “কংগ্রেসে নির্বাচিত রিপাবলিকানদের ব্যাপক সমর্থন দেখা যাবে।” তবে কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি ও প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা থমাস মাসাঈ বলেন, এই সংঘাত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা রিপাবলিকানদের মধ্যে ভিন্নমতের ইঙ্গিত দেয়।

পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি প্রয়োজনীয় নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে থাকবে।

অতীতে অনুরূপ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জুনে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর সিনেটে ইরান সংক্রান্ত ওয়ার পাওয়ারস প্রস্তাব পাস হয়নি। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতেও একই ধরনের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আইনে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে চলমান ভোট কংগ্রেসের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ