বিনোদন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নতুন নাটক ‘জখম’। প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ লাখেরও বেশি দর্শক নাটকটি উপভোগ করেছেন। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত এই নাটকটি বর্তমানে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মূলত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক বাস্তবমুখী আখ্যান হিসেবে এটি প্রশংসিত হচ্ছে।
নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই বিপরীত চরিত্রের মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের শান্ত ও অন্তর্মুখী স্বভাবের মেয়ে রাইসা এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মিশুক স্বভাবের তরুণ পার্থ—এই দুই চরিত্রের রসায়ন ও পরবর্তী সংঘাতকে ঘিরেই কাহিনী এগোয়। তবে গল্পের মূল মোড় আসে ধর্ষণ ও প্রতিশোধের এক চরম বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে। সমাজের অন্ধকার দিক এবং অন্যায়ের শিকার হওয়ার পর একজন নারীর বিচার পাওয়ার লড়াইকে এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
নাটকটিতে রাইসা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী এবং পার্থ চরিত্রে দেখা গেছে তৌসিফ মাহবুবকে। কেন্দ্রীয় এই দুই চরিত্রের অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। ইউটিউবের মন্তব্য ঘরে অনেক দর্শকই নাটকটিকে একটি ‘শক্তিশালী সামাজিক বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে এই ধরনের সাহসী নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিচালক ইমরাউল রাফাত নাটকটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেন, “এটি কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং এটি প্রতিশোধ ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। আমাদের সমাজে ধর্ষণের শিকার নারীরা যে মানসিক ও সামাজিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেটিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।” মাত্র একদিনে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই নাটকটি দেখা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানোকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নাটকটিতে তটিনী ও তৌসিফ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ, মনিরা আক্তার মিঠু, আনোয়ার শাহী, সাবিহা জামান, রিমু রেজা খন্দকার ও ইসরাত অতিথি। অভিনয়শিল্পীদের প্রত্যেকের সাবলীল পরিবেশনা নাটকটিকে একটি মানসম্মত পূর্ণতা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘জখম’-এর এই দ্রুত জনপ্রিয়তা ইঙ্গিত দেয় যে, দর্শকরা এখন স্থূল বিনোদনের চেয়ে সামাজিক বক্তব্যধর্মী ও বাস্তবসম্মত কাহিনীর প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে নারীর সুরক্ষা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ হিসেবে এই নাটকটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের কনটেন্ট বাংলা নাটকের মানকে বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


