অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শই এনসিপিতে যোগদানের মূল ভিত্তি: নাহিদ ইসলাম

অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শই এনসিপিতে যোগদানের মূল ভিত্তি: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দলের আদর্শ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে কেউ এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারবেন। এক্ষেত্রে অতীতে কে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটি বিবেচ্য হবে না। তবে ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য দলের দরজা বন্ধ থাকবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের এনসিপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে দলের অন্তর্ভুক্তির মানদণ্ড স্পষ্ট করে বলেন, “অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা ছাত্রলীগ করুক—সেটি আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। আজ থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবেন, তিনি এই দলেরই সংগঠক এবং নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত হবেন। তাকে এনসিপির সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য ধারণ করে কাজ করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ কারণে বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দলে স্থান দেওয়া হবে না।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘দায় ও দরদ’-এর রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, আমরা তাদের সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা।”

সংবাদ সম্মেলনে নতুন যোগদানকারী নেতাদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আজ যারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন, তারা মূলত দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সহযাত্রী ছিলেন। হয়তো প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল, কিন্তু আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়েছি।” তিনি দেশের তরুণ সমাজসহ সব বয়সী মানুষকে এনসিপির হাত শক্তিশালী করতে এবং দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে নতুন করে কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাতে উদ্ভব না ঘটে, সে বিষয়ে তরুণ সমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই গণরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনতে হবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এনসিপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করছে। আজকের এই যোগদান অনুষ্ঠানকে সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই ‘উন্মুক্ত কিন্তু সতর্ক’ সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী দিনে রাজপথে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এনসিপি একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ