লিবিয়ার স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের আগ্রহ

লিবিয়ার স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের আগ্রহ

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

লিবিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসনে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে লিবিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পেশাজীবীদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, লিবিয়ার বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশিরা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং লিবিয়ার চিকিৎসা সেবাকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চায় দেশটি।

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অতীতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী লিবিয়ায় সেবা দিয়েছেন। বর্তমানেও অনেক পেশাজীবী সেখানে কর্মরত আছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে অনেক কর্মীর বেতন-ভাতা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত এই সমস্যার কথা উল্লেখ করে বর্তমানে কর্মরতদের বেতন নিয়মিত করায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি আরও জানান, কিছু কর্মীর বেতন এখনো বকেয়া রয়ে গেছে এবং দেশে ফিরে আসা অনেক পেশাজীবীও তাদের পাওনা পাননি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজ বেতন পরিশোধে বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ কর্মীর মাসিক বেতন নিয়মিত করা হয়েছে। এছাড়া, দেশে প্রত্যাবর্তনকারীসহ সকল বাংলাদেশি কর্মীর বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি বিশেষায়িত কমিটি কাজ করছে। লিবিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল কর্মীর অধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বর্তমান বিনিময় হার (Exchange Rate) অনুযায়ী চুক্তি নবায়ন করা, চুক্তিভিত্তিক সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। লিবিয়া সরকার এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিবিয়ায় নতুন করে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম এই দেশটিতে বড় আকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে কর্মীদের নিরাপত্তা এবং নিয়মিত বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবে দুই দেশ। এতে লিবিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ