মার্চের প্রথম তিন দিনে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

মার্চের প্রথম তিন দিনে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি মার্চ মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে এসেছে প্রায় ১৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার। বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রণোদনা এই প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ২ হাজার ৩০২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। জানুয়ারি মাসে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত। ধারাবাহিকভাবে কয়েক মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ডলার সংকট ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপের সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিকে সহায়তা করে থাকে।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমান। দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে কোনো অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ এ পরিমাণে পৌঁছায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত লেনদেন সুবিধা এবং হুন্ডি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণও এ প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নির্বাহ ও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রবাসী আয়ের অবদান আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ