ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন: অ্যালান আয়র

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন: অ্যালান আয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আয়র। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) অন্যতম প্রধান এই আলোচক মনে করেন, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আলোচনার পথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়র বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্মোহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে যখন পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন ইরানের শাসনব্যবস্থায় মধ্যপন্থি নেতৃত্বের প্রভাব ছিল। সেই অনুকূল রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন আর বিদ্যমান নেই। বর্তমানে তেহরানের নেতৃত্বে রয়েছেন কট্টরপন্থিরা, যারা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি অনমনীয়। এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে, যা যে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগকে শুরুতেই হোঁচট খাওয়াচ্ছে।

আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু দাবির বিষয়ে আয়র ভিন্নমত পোষণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আলোচনার টেবিল থেকে পিছিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ তুলছে, আয়র সেটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি বা অতিরঞ্জন’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে, ইরান তাদের মজুতকৃত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে সম্মত হয়েছিল—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, দুই পক্ষই জনসমক্ষে এমন সব রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে যা প্রকৃতপক্ষে রুদ্ধদ্বার আলোচনার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

আয়রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী ভূরাজনৈতিক সংকট। নিরাপত্তার এই বাড়তি অনুষঙ্গগুলো সমীকরণটিকে আরও দ্বন্দুপূর্ণ করে তুলেছে। একদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই—এই দুই মেরুর অবস্থানে সমঝোতার জায়গাটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৫ সালের সমঝোতার পর থেকে ইরান তাদের প্রযুক্তিতে যে অগ্রগতি ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে নতুন মিত্রতা তৈরি করেছে, তা মার্কিন নীতি নির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান ইরানি প্রশাসনের কঠোর মনোভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোকে আয়র ‘অত্যন্ত কঠিন’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ