সুনামগঞ্জে কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন ও সুরমায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

সুনামগঞ্জে কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন ও সুরমায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন প্রতিষ্ঠা এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ জার্সি স্টেট বিএনপি (উত্তর)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসেন পাঠান বাচ্চুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের উন্নয়ন দর্শনে প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে হাওরাঞ্চলের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো। হোসেন পাঠান বাচ্চু সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট এলাকায় সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং ডলুরা শুল্ক স্টেশন পুনরায় সচল করার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সুরমা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে জেলার আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

হাওরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি স্বতন্ত্র কৃষিভিত্তিক শিল্প জোন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে। ধান ও মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জে যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের অভাবে কৃষকরা প্রায়ই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। একটি বিশেষায়িত শিল্প জোন থাকলে এই অঞ্চলের পণ্য সরাসরি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতি বছর বোরো ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, তার স্থায়ী সমাধানে আধুনিক স্লুইস গেট ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

সুনামগঞ্জকে মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার দাবিও জানানো হয়। বিশেষ করে চলমান ঢাকা-সিলেট ৬-লেন মহাসড়ক প্রকল্পের সুফল যেন সরাসরি সুনামগঞ্জ জেলা পায়, সে বিষয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের যে জটিলতা চলছে, তা দ্রুত নিরসন করে শিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উত্থাপিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং সুনামগঞ্জের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি এসব খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন, তবে সরকার তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, সিলেট বিভাগের পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতের সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সুনামগঞ্জ শীঘ্রই শিক্ষা, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে একটি নতুন সম্ভাবনার জনপদে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুনামগঞ্জের মতো প্রান্তিক জনপদে ডলুরা শুল্ক স্টেশন চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রীর এই ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও পর্যটন নির্ভর সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ