শিক্ষকদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপ

শিক্ষকদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপ

জাতীয় ডেস্ক

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বর্তমান সরকার শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গতিপথ ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। সরকার বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানোন্নয়ন এবং তাদের জীবনমান বিকাশে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার কারিকুলামকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাপ স্কিল’ প্রকল্পের আওতায় ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষকরা কেবল সামাজিকভাবেই মর্যাদা পাবেন না, বরং তারা অর্থনৈতিকভাবেও আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত হবেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার গুণগত মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষা অর্জনের চেয়ে বর্তমান সময়ে দক্ষতা অর্জন অনেক বেশি জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার সমন্বয় না থাকায় শিক্ষিত বেকারত্বের হার বাড়ছে। এই সংকট নিরসনে একাডেমিক সিলেবাসকে যুগোপযোগী করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষাক্রম সংস্কার করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল সনদধারী না হয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

মেধা পাচার রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মেধাবীদের বাইরে চলে যাওয়া নয় বরং দেশেই তাদের মেধা বিকাশের যথাযথ পরিবেশ তৈরি করতে চায়। মেধাকে লালন করে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে টেকসই উৎকর্ষতা অর্জনের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। একইসঙ্গে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারে সরকারের এই বিশেষ নজর দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ