শ্রীলঙ্কা বিপদগ্রস্ত ইরানি নাবিকদের উদ্ধার ও আশ্রয় দিয়েছে

শ্রীলঙ্কা বিপদগ্রস্ত ইরানি নাবিকদের উদ্ধার ও আশ্রয় দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেও মানবিক অবস্থান দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে সংকটে পড়া দুই শতাধিক ইরানি নাবিককে উদ্ধার ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে।

গত বুধবার ভারত মহাসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবমেরিনের আঘাতে কোনও রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। হামলার পর শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নেমে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে এবং পরে ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ও ছবি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

প্রথম ঘটনার প্রভাবে আইআরআইএস বুশেহর নামের আরেকটি ইরানি জাহাজ ইঞ্জিন বিকল হয়ে শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে আটকা পড়ে। হেলিকপ্টার প্যাডযুক্ত এই লজিস্টিক জাহাজটি সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ‘মিলান ২০২৬’ বহুজাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটির ক্যাপ্টেন এবং ইরান সরকারের অনুরোধে শ্রীলঙ্কা জাহাজটিকে তাদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন অনুযায়ী জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উল্লেখ করেন, যুদ্ধে সাধারণ মানুষের মৃত্যু কাম্য নয় এবং প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।

শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সাম্পাত বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, ভারত মহাসাগরে নির্ধারিত তল্লাশি ও উদ্ধার এলাকা থেকেই নাবিকদের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের কলম্বো বন্দরে আনা হবে এবং জাহাজটি পরবর্তীতে পূর্ব দিকের বন্দরে সরানো হবে। চিকিৎসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া শেষে নাবিকদের কলম্বোর উত্তরের ওয়েলিসারা নৌঘাঁটিতে রাখা হবে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কার্ল ঝা শ্রীলঙ্কাকে ‘ভারত মহাসাগরের প্রকৃত অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সাংবাদিক রায়ান গ্রিম এবং রাঙ্গা সিরিলালও কলম্বোর এই মানবিক ও নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা উল্লেখ করছেন, রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কা যেভাবে উদ্ধার ও সহায়তা দিয়েছে, তা মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে চরম মেরুকরণের পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। যুদ্ধ বা রাজনীতি যা-ই হোক না কেন, সাগরে বিপদগ্রস্ত নাবিকদের রক্ষা করা সমুদ্রসীমার প্রধান নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদ্ধার অভিযান ও সহায়তা প্রদানের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শ্রীলঙ্কাকে একটি মানবিক এবং নীতিবান রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ