বাংলাদেশ ডেস্ক
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি রবিবার (৮ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোলের বলরামপুর সাহা পাড়ায় খাল পরিদর্শনের সময় জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির আলোকে প্রথমে একটি হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন করা সম্ভব হবে। আগামী পাঁচ বছরে সরকারের লক্ষ্য ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হলেও, পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি আরও বেশি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি একটি আন্দোলন এবং এটি একটি বিপ্লবের স্বরূপ।
মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কর্মসূচি স্বেচ্ছায় শ্রমের ভিত্তিতে শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনী কর্মসূচির মাধ্যমে এই খাল খনন কার্যক্রম ঈদের আগেই শুরু করতে যাচ্ছে।” আগামী মঙ্গলবার একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্ধারণ করা হবে কোন কোন জেলায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। দিনাজপুর জেলায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার গঠন করলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাহারোলের বলরামপুর সাহা পাড়ায় ১২.২০ কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় একযোগে শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশগত ভারসাম্য উন্নয়ন সম্ভব হবে।
পরিদর্শনের সময় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
খাল খনন কর্মসূচি দেশের নদী ও জলাশয়ের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং স্থানীয় কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
সেকারণে দিনাজপুর জেলা ও অন্যান্য অঞ্চলে খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা এবং অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


