ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু কাল, সুবিধাভোগীরা পাবেন নগদ সহায়তা

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু কাল, সুবিধাভোগীরা পাবেন নগদ সহায়তা

জাতীয় ডেস্ক

দেশে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেখানে নারীদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় মাল্টিপারপাস হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে উপস্থিত থাকবেন, আর বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে নিম্নলিখিত এলাকায়: রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪), এবং বাগানবাড়ি বস্তি। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও কার্ড বিতরণ শুরু হবে।

এই কার্যক্রম নির্বাচনের আগে সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে পরিচালিত হবে। প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রকল্প তত্ত্বাবধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ধাপে ধাপে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হবে। কার্ডধারীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে, যা সুবিধাভোগীদের দৈনন্দিন খরচ ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

কয়েকদিন আগে জানানো হয়েছিল যে, কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হবে, পরে তা পরিবর্তন করে ঢাকার কড়াইল এলাকায় করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সুবিধাভোগীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখা।

পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমের ফলাফল ভিত্তিতে সরকার ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকার জন্য সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় পরিকল্পনা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সফল বাস্তবায়ন সামাজিক নিরাপত্তা নীতিকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ