লন্ডনে কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ড. খলিলুর রহমান

লন্ডনে কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

রোববার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশ এবং কমনওয়েলথের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্মেলনে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ভিত্তিক ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং এর সামনে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধিদল সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকেও অংশগ্রহণ করছে।

বৈঠকে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং সহযোগিতামূলক কাঠামোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিশ্বজুড়ে নতুন করে দেখা দেওয়া নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উন্নয়ন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

এই সম্মেলনে আগামী ১ থেকে ৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় অঞ্চলের অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনের আলোচ্যসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। সিএইচওজিএম সম্মেলনকে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পরিকল্পনা করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই পদে নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে সাইপ্রাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই প্রতিযোগিতা দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির মাধ্যমে এই পদে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেছিল। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল।

এদিকে ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের মধ্য দিয়েই এবারের কমনওয়েলথ দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার কমনওয়েলথ দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সদস্য দেশগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে সংস্থাটির মূল লক্ষ্য ও আদর্শ তুলে ধরা হয়।

সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আগামী ১২ মার্চ দেশে ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ