তামাকজাত দ্রব্যের ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দ পরিবর্তন করে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব

তামাকজাত দ্রব্যের ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দ পরিবর্তন করে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব

জাতীয় ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সোমবার জাতীয় সংসদে তামাকজাত দ্রব্য সম্পর্কিত আইনের নামকরণে পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটি ঢিলেঢালা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ শব্দ ব্যবহার করে কঠোর আইনি প্রভাবের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেছেন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তামাকবিরোধী সংগঠন ‘আত্মা’ (অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স) এবং ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে রূপান্তরিত হওয়ার আশা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ অধিবেশনে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমি আইনটির নামকরণে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেব। এটি আমার সংসদীয় এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও তামাকজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক এ বিষয়টি উপস্থাপন করেন। জহির উদ্দিন স্বপন জানান, আইন বাস্তবায়নের জন্য ‘আত্মা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-কে কার্যকর রূপরেখা বা গাইডলাইন তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে, যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করবে।

তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর করে। ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫’ পাসের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আইন প্রবর্তনের পর একটি ‘পজিটিভ ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে জনমত তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সহজে আইন বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দল তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, এনটিভির হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, চর্চা ডট কম-এর সম্পাদক সোহরাব হোসেন এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। গোলটেবিল বৈঠকে তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ