নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল মোমিন (২৯) নামে এক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং বাবা স্থানীয় বাজারে নিজের দর্জির দোকানে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুল মোমিন ফাঁকা বাড়িতে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় অভিযুক্ত।
ঘটনার পর মেয়েটির মা বাড়িতে ফিরলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা রাতে অভিযুক্ত আব্দুল মোমিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মোমিন ওই এলাকার গেন্দা মিয়ার ছেলে বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (অ্যাক্টিভ পারভাজাইন্যাল ব্লিডিং) পরিলক্ষিত হয়। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক আলামতে ধর্ষণের স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


