জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে এসব রোগ প্রতিরোধে কেবল সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও সচেতন হয়ে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক অভিযান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমানউল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের রোগ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তিনি বলেন, বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস প্রজাতির মশা বংশবিস্তার করে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মূল বাহক হিসেবে পরিচিত। তাই এসব স্থানে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কোনো এক দিনের কর্মসূচি নয়। এটি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত একটি কার্যক্রম হিসেবে চলমান থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কেরানীগঞ্জের ঢাকা-২ আসনে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে আমানউল্লাহ আমান বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রাম, বালতি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার বা আশপাশের ডোবা-নালায় যেন পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা, নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার বাসার ভেতর ও আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রচার ও কর্মসূচি পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক। এ সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


