আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতের কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী বা বিমানবন্দর কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি এক বিবৃতিতে জানান, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এসব ড্রোনের আঘাতে বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাডার ব্যবস্থা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর মাধ্যমে আকাশপথে উড়োজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন, হামলার পরপরই বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শুরু করেছে। পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত বা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে বিকল্প প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে এ ধরনের হামলা বিমান চলাচল নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা বাহিনী বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় বলে এ ধরনের ড্রোন হামলা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে ড্রোন ব্যবহারের নজির রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাডার ব্যবস্থার মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিমানবন্দর পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


