জাতীয় ডেস্ক
ঈদের ছুটির আগে রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের বিস্তারিত আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সংসদের সচিবালয় জানায়, বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়।
দৈনিক কার্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১) এর আওতায় প্রাপ্ত নোটিশসমূহও নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং এ প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি সম্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ এবং অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টার আলোচনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধি–৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি–১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ জমা পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং নোটিশসমূহের আলোচনার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা, কর্মসূচি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর সংসদ সদস্যদের সম্যক ধারণা লাভের সুযোগ থাকবে।
এ অধিবেশন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে জনসাধারণের কাছে তথ্য উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং বিধি অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণ ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনার মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধিবেশনের এই কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং সরকারের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।


