খেলাধূলা ডেস্ক
ইরান ফুটবল ফেডারেশন আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরানোর বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দূতাবাসের বরাতে ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষমতার কথা প্রকাশ করায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিচ্ছুক। তিনি আরও জানান, ‘আমরা বর্তমানে ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি যাতে বিশ্বকাপে আমাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় আয়োজন করা হয়।’
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে দলটি। দলের বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে অ্যারিজোনার টুসনে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজল পাসানদিদেহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে ভিসা প্রদান ও লজিস্টিক সহায়তায় ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তিনি ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত ফিফা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশ্বাস দিয়েছেন, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত থাকলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। তার এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, কোনো দেশ তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এখনও ইরানের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে আশাবাদী। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর জন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দিন শেষে ফেডারেশনই খেলার সিদ্ধান্ত নেবে। আজ পর্যন্ত তারা আমাদের যা জানিয়েছে, তাতে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ইরান দলের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলে বিশ্বকাপের সূচিতে কোনো পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।


