জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র ওষুধ নির্ভরতার পরিবর্তে জনসচেতনতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সফলতা জনসচেতনতার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর উত্তরখান মধ্যপাড়ায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঈদগাহ মাঠের উদ্বোধনকালে প্রশাসক বলেন, মশার ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা রোধ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র রাস্তা বা মাঠে ওষুধ প্রয়োগ করে ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাই এলাকার বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “ঈদগাহ ও জানাজা মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকলেও নগরবাসীর সেবায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
তিনি আরো জানান, নগরীতে মশা দমন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, আবর্জনা ও অপরিষ্কার পরিবেশ মশার জন্মদায়ী হিসেবে কাজ করে, যা ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়াতে পারে। তাই প্রশাসন এবং জনসাধারণের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এ ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমকে নিয়মিতভাবে চালানোর পরিকল্পনা করছে। মাঠ এবং কমিউনিটি এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা নিধন স্প্রে এবং স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও কমিউনিটি সেন্টারে জনসচেতনতা কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে জোরদার করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। যদি আবর্জনা যথাযথভাবে নিষ্কাশন করা হয়, পানি জমে না থাকে এবং মানুষ মশা থেকে রক্ষা সম্পর্কিত নিয়ম মেনে চলে, তবে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে, যা শহরের স্বাস্থ্যপরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে নগরবাসীকে স্বাস্থ্য সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রমণরোধী রোগ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে।


