জাতীয় ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে, বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে নিয়মিত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৬১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বাতিল হওয়া আজকের ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কুয়েতগামী চারটি, শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়া ছয়টি, বাহরাইনগামী গালফ এয়ার দুইটি, কাতারগামী কাতার এয়ারওয়েজ চারটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইনস দুটি, কুয়েতের জাজিরা চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইদুবাই চারটি ফ্লাইট রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দিনে দিনে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথম দিনে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হলেও পরবর্তী কয়েকদিনে ৪০, ৪৬, ৩৯, ২৮, ৩৬, ৩৪, ২৮, ২৮, ৩৩, ৩২, ২৭, ২৮, ২৫, ২৪, ২৩, ২৮, ২৬, ২৬ এবং আজ বৃহস্পতিবার ২৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরগুলোর রুট ও ফ্লাইট সময়সূচি পুনঃনির্ধারণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি যাত্রী এবং বিমান সংস্থার উভয়ের জন্যই জটিলতা সৃষ্টি করছে। বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো প্রভাবিত হচ্ছে।
বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়মাবলী মেনে আগামী দিনে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে পুনঃনির্ধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা সব যাত্রীকে তাদের ফ্লাইটের স্ট্যাটাস নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রশাসনও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কাউন্টার ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।
ফলে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, এবং যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


