মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য

জাতীয় ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সে সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের ঘটনাবলি, যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে এবং এটি জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ মার্চের কালরাত্রির পরবর্তী পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, ওই ঘোষণাটি যুদ্ধের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং তা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের মনোভাব জাগিয়ে তোলে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের ফলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। পরদিন স্বাধীনতার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধে অংশ নেয়। তার মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে জাতি নতুন এক সংগ্রামের অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধিকারের দাবিতে আন্দোলন চলছিল এবং সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ঘোষণাটি মানুষকে সংগঠিত করতে এবং যুদ্ধের জন্য মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করতে সহায়ক হয়েছিল।

যুদ্ধের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ঘোষণার পরপরই তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কিছু অবকাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের ইসলামপুর এলাকায় পরিবারসহ অবস্থানকালে সীমিত পরিসরে জীবনযাপন করতে হয়েছে। পরে সেখানে যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় একাধিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে ওঠে, যেখানে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও এ কার্যক্রমে যুক্ত হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করা সম্ভব হয়।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার দাবি, বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহের চোখে দেখা হতো, যার ফলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সংগঠক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান এবং যুদ্ধের কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন।

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি জনযুদ্ধ ছিল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের কারণেই শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জিত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের লড়াইয়ের পর স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি তিনি জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার মতে, সেই সময়কার অভিজ্ঞতা ও ঘটনাবলি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ