ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ, কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল তেহরান

ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ, কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর কথা বললেও অন্যদিকে দেশটির বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একাধিক বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্কুল, হাসপাতাল, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে বেসামরিক জনগোষ্ঠী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আরাগচি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে। ইরান মনে করছে, বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের আইনি অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় আরাগচি দাবি করেন, ইসরায়েল ইরানের দুটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল দাবি করেছে যে এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একই সঙ্গে সামরিক হামলা চালানোকে তেহরান ‘অসহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, শিল্প ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সমঝোতার পথ সংকুচিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ