বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেলের মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৯টি ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে দেশে অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধ এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে এ মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়। এর আওতায় ঢাকা জেলায় একটি, কুড়িগ্রামে দুটি, রংপুরে তিনটি, রাজশাহীতে তিনটি, সিলেটে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি, কুমিল্লায় তিনটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি এবং সুনামগঞ্জে একটি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। মোট নয়টি জেলার ১৯টি ডিপোতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ মোতায়েন একটি পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট স্থানে নিরাপদ অবস্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলোর প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদার করেছেন। পাশাপাশি অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ, নাশকতা মোকাবিলা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রাখা হচ্ছে।
ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এবং এতে জনমনে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যও রয়েছে।
এদিকে, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থল ও নৌপথে নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিপি)গুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রফতানিতে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, পাচার ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।


