স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যু

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যু

বাংলাদেশ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সহধর্মিণী মিসেস দিলারা হাফিজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা গেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং নাতি-নাতনিসহ বহু স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন দিলারা হাফিজ। প্রথমদিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

মরহুমার মরদেহ আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ মার্চ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

দিলারা হাফিজ ছিলেন একজন সুপরিচিত সমাজসেবী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। বিশেষ করে নারী উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা এবং দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। তার এই অবদান বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে। রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের একজন উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক ব্যক্তির সহধর্মিণী হিসেবে দিলারা হাফিজ দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যু ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি একটি সামাজিক শূন্যতারও সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন পর্যায়ে তার অবদান স্মরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ