বাংলাদেশ ডেস্ক
বর্তমান পোশাক নিয়ে পুলিশ বাহিনীর অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাহিনীকে তাদের ঐতিহ্যমণ্ডিত কোনো একটি পূর্ববর্তী পোশাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি নতুন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমান আচরণের আওতায় আসবে। একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনায় চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং সমন্বিত নেতৃত্বকে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য হবে বাহিনীর কার্যক্রমকে পেশাদার ও নিরপেক্ষ রাখা।
পুলিশ বাহিনীর জনবল বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ৮০ জন শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ৭২ জন কর্মকর্তা সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৬ জন নারী এবং ৬৬ জন পুরুষ কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আইন প্রয়োগ, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ও অনুশীলন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়।


