খেলাধূলা ডেস্ক
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খেলোয়াড়রা প্রতীকী স্কুলব্যাগ হাতে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় নীরবতা পালন করেন। একই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে তারা কালো আর্মব্যান্ডও ধারণ করেন।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ক্লোজডোর প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয় ইরান। ম্যাচ শুরুর আগে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা প্রদর্শনে খেলোয়াড়দের হাতে গোলাপি ও বেগুনি রঙের স্কুলব্যাগ দেখা যায়, যা নিহত স্কুলছাত্রীদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন পর্যায়ে শোক পালন করে আসছে দেশটি।
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ওই বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রীতি ম্যাচে ইরান দল কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ম্যাচের শুরুতেই নাইজেরিয়া এগিয়ে যায়। ষষ্ঠ মিনিটে মোসেস সিমনের গোলে লিড নেয় আফ্রিকান দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১তম মিনিটে একর অ্যাডামসের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নাইজেরিয়া। ৬৭তম মিনিটে মেহদী তারেমির গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইরান।
ইরান জাতীয় দল আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করলেও টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ ও ম্যাচ আয়োজন সংক্রান্ত কিছু অনিশ্চয়তা এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো নিয়ে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে স্থানান্তরের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বিষয়ে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সঙ্গে বিকল্প আয়োজন নিয়ে আলোচনা চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ঘোষিত সূচি পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ আয়োজনের লক্ষ্যেই সংস্থাটি কাজ করছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ইরানের প্রতিনিধি দলের কিছু সদস্য ভিসা জটিলতার মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে আলোচনার জন্ম দেয়।
সার্বিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ক্রীড়াঙ্গনে শোক ও সংহতির প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।


