ক্রীড়া প্রতিবেদক
জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা টাইব্রেকারে ইতালিকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ খেলায় স্থান নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলেও টাইব্রেকারে বসনিয়ার ধারাবাহিক চারটি গোল ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছে।
প্রথমার্ধে ইতালি এগিয়ে ছিল। ১৫ মিনিটে বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলের ভুল পাসে বারেল্লা ফ্রন্টে ফাঁকা জায়গায় ময়েজ কিনকে পাস করেন, যা ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন কিন। এই গোলের মাধ্যমে ইতালি প্রাথমিকভাবে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হারিস তাবাকোভিচের সমতাসূচক গোল আসে, যা ইতালির সেন্টার ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনির লাল কার্ডের পর আসে। বাস্তোনির ফাউল এবং মাঠ ছাড়ার পর বসনিয়ার চাপ বেড়ে যায় এবং তারা দুই প্রান্ত থেকে ক্রস করে বারবার ইতালির বক্সে গোলের সুযোগ তৈরি করে।
অতিরিক্ত সময়ে কোন দলই এগোতে না পারায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ইতালির পিও এসপোসিতো এবং ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে গোল করতে ব্যর্থ হন। এসপোসিতোর শট পোস্টের ওপর দিয়ে বের হয় এবং ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিপরীতে বসনিয়া চারটি লক্ষ্যভেদ করে টাইব্রেকার জিতে নেয়। ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ক্যারিয়ারে পেনাল্টি শুটআউটে মাত্র একবার হারে পড়লেও এ ম্যাচে তার সেভও কার্যকর হয় না।
ইতালি কোচ জেনারো গাত্তুসো ম্যাচের পুরো সময় দলের পাশে ছিলেন এবং শিষ্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। তবে খেলোয়াড়দের ভেতরের আবেগ প্রকাশ সীমিত ছিল, বিশেষ করে বাস্তোনি, এসপোসিতো এবং ক্রিস্তান্তের মতো ফুটবলাররা। এ ফাইনালে হেরে ইতালি টানা তিনবার বিশ্বকাপে খেলায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো। ২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফে হেরে ২০১৮ সালে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হেরে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জয়ের ফলে ১২ বছরের বিরতির পর তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরল। তাদের এই জয় বলকান অঞ্চলের দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময় পরে আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো। এ ম্যাচে বসনিয়ার স্ট্রাইকার এডেন জেকো মোট ৩০টি শট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ১১টি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ইতালির জন্য এই পরাজয় শুধু এক ম্যাচের হার নয়; এটি তাদের চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতিহাসে একটি নতুন বাস্তবতা উদঘাটন করেছে। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ইতালির বিশ্বকাপ খেলায় ফিরে আসা সম্ভব না হলেও, বসনিয়ার নীল জার্সিতে বিশ্বকাপ মঞ্চে উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাত্তুসো ম্যাচ শেষে বলেন, “এটা কষ্টের। কারণ বিশ্বকাপে ওঠা আমাদের নিজেদের এবং গোটা ইতালির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।”


