বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত

জাতীয় ডেস্ক

যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার সরকারি ছুটির কারণে আজ বুধবার (১০ জুন) দেশে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও নাজুক অঞ্চলে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা বণ্টন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখছে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বহু বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তির বেদীতে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের এই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ বিভিন্ন সময় আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হলো ২০০৭ সালের ঘটনা। ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস অত্যন্ত সফলভাবে উদযাপন করা হয়।

দিবসটির সফল আয়োজনের পর ২০০৭ সালের ৩১ মে জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক-দেসালিয়েন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন সেনা সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস অধিদপ্তরের পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে। চিঠিতে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

২০০৭ সালের সেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও ধারাবাহিক সফলতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বশান্তি বজায় রাখার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কেবল একটি অংশগ্রহণকারী দেশ নয়, বরং একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও সম্মানিত অংশীদার। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই পেশাদারিত্ব, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আত্মত্যাগের ধারা ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও গৌরব আরও বৃদ্ধি করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ