আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন: জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একদল চীনা নির্মাতার সরঞ্জাম আমদানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করেছে। এর ফলে হুয়াওয়ে ও জেডটিই-সহ বড় চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মার্কিন বাজারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়ল।
২০২১ সাল থেকে হুয়াওয়ে, জেডটিই, হিকভিশন, হিতেরা ও দাহুয়া মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২২ সালে এসব কোম্পানির নতুন মডেলের অনুমোদন বন্ধ করা হয়। এবার এফসিসি মতামত সংগ্রহ করছে, যাতে আগের অনুমোদিত পুরনো মডেলগুলোর আমদানিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে কি না। সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন যোগাযোগ খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগের অনুমোদিত সরঞ্জামগুলোর বিপণন ও আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে যারা ইতিমধ্যেই এসব ডিভাইস কিনেছেন, তারা সেগুলো ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।
এফসিসি নির্দেশ দিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে কোম্পানিগুলো যাতে তাড়াহুড়ো করে নতুন ডিভাইস আমদানি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হবে। শুধুমাত্র টেলিযোগাযোগ পণ্য নয়, গত ডিসেম্বরে চীনের নতুন সব ড্রোনের আমদানি এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহে নতুন মডেলের কনজিউমার রাউটারের আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া চীন সরকারের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন পরীক্ষাগারের স্বীকৃতিও বাতিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
চীনা কোম্পানি হিকভিশন এফসিসির এই কঠোর পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, এফসিসি তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন আপিল আদালত হিকভিশনের আবেদন খারিজ করে পূর্বের নিষেধাজ্ঞাকে বহাল রেখেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন বাজারে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে এর ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে এবং প্রযুক্তি সরবরাহ চেইনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। মার্কিন সংস্থাগুলোও এই সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিন্যস্ত করতে বাধ্য হতে পারে।
এফসিসির এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা প্রযুক্তি সংক্রান্ত সুরক্ষা ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থির দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে দেখছেন। এটি চীনা প্রযুক্তি খাতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী টেলিকমিউনিকেশন ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বাজারে প্রতিযোগিতার ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে।


