আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ৩৫তম দিনে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলাটি একটি পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান ছিল। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় নির্দিষ্টভাবে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দফতরকে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলার সঠিক সময়সূচি ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধরণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত হামলার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও আহত বা নিহতের সংখ্যা সম্পর্কেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে আঘাত হানার খবর প্রকাশিত হয়। এই হামলায় রোশ হায়াইন, গিভাতায়িম, বেনি ব্রাক ও তেল আবিব শহরে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শিল্প স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৌশল ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লক্ষ্যভিত্তিক এ ধরনের হামলা ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য বহন করছে। একই সঙ্গে, এই সংঘর্ষ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অংশগ্রহণ, কৌশলগত জোট এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি বিষয়েও বিশ্লেষকরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন। তাই এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।


