আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ৩৬তম দিনে ইরান সমান তালে প্রতিরক্ষা ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানি বাহিনী মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তেহরানের সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ইরান তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরানি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করেছিল। তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক প্রস্তাবটি গত বুধবার (১ এপ্রিল) ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল, যা একটি মধ্যস্থ দেশ দ্বারা পাঠানো হয়েছিল। তবে কোন দেশটি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হওয়ার পর একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। সিএনএন জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি জীবিত এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে বিমানে থাকা অপর ক্রু সদস্যের অবস্থান এখনও নিশ্চিত হয়নি এবং তাকে উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূপাতিত বিমানটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল মডেলের ছিল, যা আকাশ ও স্থল উভয় স্থানে হামলা চালাতে সক্ষম। এই মডেলের বিমান সাধারণত একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র পরিচালনাকারী সহ দুই সদস্যের ক্রু দ্বারা পরিচালিত হয়। মার্কিন সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর প্রচলিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, যদি দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে এটি আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে প্রতিরক্ষা ও হামলায় সমান তালে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


