রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা রাশেদ খান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচারের অভিযোগে জামায়াতের কর্মী সুমির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে।
রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পোস্টগুলো একজন মহিলা জামায়াতকর্মী ফেসবুকে প্রকাশ করছিলেন। তিনি বলেন, “বাবার সঙ্গে মেয়ে সিনেমা দেখতে গেছে, কিন্তু সেই নারী কত বড় ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রচার করেছেন, তা বিবেচনা করা দরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের নিয়ে তুলনামূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের প্রতিকার প্রয়োজন।
বিএনপি নেতা বলেন, “নারী হিসেবে অন্য একজন নারীর সঙ্গে অনুচিত তুলনা করা হয়েছে। এটি সমালোচনা হতে পারে, তবে একজন নারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যাবশ্যক।” তিনি বলেন, শামা ওবায়েদ সম্পর্কে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও জানান, তার নিজস্ব টাইমলাইনে এ ধরনের অসংখ্য মিথ্যা, গুজব এবং ঘৃণাপূর্ণ পোস্ট রয়েছে। রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, “বাবা-মেয়েকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ প্রচার করা হয়েছে, তার প্রতিকার কী হবে? জামায়াতে ইসলামী কি এরকম পরিস্থিতিতে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে?” তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও আমীর হামজা এমপি তার সহকর্মী নারী এমপিদের নিয়ে অনুরূপ মন্তব্য করলেও জামায়াত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
রাশেদ খান বলেন, এসব বিষয় সমালোচনা করা যায়, তবে সরকার এবং বিরোধীদল উভয়কেই এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে সুরাহার পথ বের করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং মাননীয় ব্যক্তিদের নামে বিভ্রান্তিকর বা কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচারের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর এবং এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয় হওয়ায় এ ধরনের কার্যকলাপে সতর্কতা অপরিহার্য।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নজরকাড়া প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের নামে অনলাইন কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে আনতে যথাযথ প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।


