জাতীয় ডেস্ক
আগামী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। সকাল ১০টায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি চালু হবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কৃষকদের জন্য প্রণীত ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে সেবাদান ও সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রি-পাইলট পর্যায়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১১টি উপজেলা হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী। এসব উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড বিতরণ ও নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পরিচয় যাচাই, সরকারি ভর্তুকি বিতরণ, কৃষি প্রণোদনা প্রদান এবং বিভিন্ন কৃষি সেবা সহজীকরণে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এর ফলে কৃষি খাতে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব হ্রাস এবং সেবার প্রাপ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করার মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রি-পাইলট পর্যায়ের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিবন্ধন, তথ্য সংগ্রহ এবং কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজও চলমান থাকবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, সহায়তা বিতরণে অদক্ষতা এবং সঠিক কৃষক চিহ্নিতকরণে জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে। তবে তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রি-পাইলট পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ধাপে কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় কৃষকের অংশগ্রহণ, তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং সেবা প্রদানের কাঠামো আরও উন্নত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহর ও শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।


