নিউ ইয়র্কে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রায় ৯০ জন গ্রেপ্তার

নিউ ইয়র্কে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রায় ৯০ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটন এলাকায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধ এবং ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক বিক্ষোভকারী অংশ নেন এবং পরে তারা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি চালান।

বিক্ষোভকারীরা ম্যানহাটনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধাপে ধাপে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পুলিশের গাড়িতে করে স্থানান্তর করা হয় বলে জানা যায়।

বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিল ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা হ্রাস, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনামূলক অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নীতির পরিবর্তনের দাবি জানান এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসানের আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রথমে ম্যানহাটনের সিনেট ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতা চাক শুমার এবং সিনেট সদস্য ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ডের কার্যালয়ে প্রবেশ করে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনী ভবনের প্রবেশপথে তাদের আটকে দেয়। পরবর্তীতে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন এবং প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তিও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক সামরিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত এক হুইসেলব্লোয়ার, একজন অভিনেতা এবং নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের একজন সদস্যও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্ব মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছেন। এ অবস্থানকে তারা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

গ্রেপ্তারের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেখানে যুদ্ধ ব্যয়ের পরিবর্তে সামাজিক খাতে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। তাদের মূল দাবি ছিল সামরিক ব্যয় হ্রাস করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় বাজেট বৃদ্ধি করা।

ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একাধিক দফায় হস্তক্ষেপ করে এবং শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে ঘিরে চলমান বিভাজন এবং জনমতের চাপের একটি প্রতিফলন। বিশেষ করে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রতিবাদ সাম্প্রতিক সময়ে আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

এ ঘটনার মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নতুন একটি পর্ব যুক্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে বৈদেশিক নীতি, মানবাধিকার এবং জননিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ