রাঙামাটি — জেলা প্রতিনিধি
রাঙামাটিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল, সরকার সেই গণরায়ের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের অবস্থানের বিপরীতে সরকার অবস্থান নিচ্ছে—এ ধরনের মনোভাব গণভোট সংক্রান্ত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় অবস্থিত আইসিআর পাবলিক লাইব্রেরিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভার শুরুতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাঁর মতে, ১১ দলীয় ঐক্যজোট সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজপথে থেকে পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথেই অগ্রসর হতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম। সভা পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনছুরুল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মোর্শেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বক্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনগুলোর করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও আলোচনা রয়েছে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় ঐক্যজোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারী নেতারা জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় উপস্থিত নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষে মত দেন এবং ঐক্য বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।
মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজকরা জানান, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে এবং ঐক্যজোটভুক্ত দলগুলো সমন্বিতভাবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


