ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপে নিজে অংশ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সম্ভাবনার কথা জানান, যেখানে আলোচনার প্রসঙ্গের পাশাপাশি পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তান সফর শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের বিষয়ে আরও আগ্রহী হয়েছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনার পর ভ্যান্স বৈঠকের বাইরে পাকিস্তানের স্থানীয় খাবার বিশেষ করে নেহারি ও পায়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিজ্ঞতা আলোচনার পরিবেশকে আরও মানবিক ও অনানুষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী একটি ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় মার্কিন পক্ষের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দীর্ঘ সময় চলা এ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, উভয় পক্ষই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে তিনি নিজেও সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অর্জিত হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনাকে পর্যবেক্ষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে ছিল বলে জানা গেছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হলেও আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে একটি অগ্রগতির ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের পোস্টে আলোচনার সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনায় অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন অনেক সময় সংলাপকে সহজ করতে সহায়তা করে। তবে এ ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্য কূটনৈতিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে জনমনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরবর্তী ধাপ কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ